আজ ১৭ রমজান, মহান বদর দিবস। ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ এক যুগান্তকারী ঘটনা। তাই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
বদর যুদ্ধের ইতিহাস
দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মদিনার উপকণ্ঠে বদর নামক স্থানে মুখোমুখি হয় মুসলিম ও কুরাইশ বাহিনী। ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ ছিল অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই। বাতিলের বিরুদ্ধে হকের যুদ্ধ। ইসলাম ও মুসলিমদের অস্তিত্বের সংগ্রাম। যে যুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে জয়ী হন প্রিয় নবীর (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানরা। বদর যুদ্ধে মহান আল্লাহপাক অসম কাফের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। অস্তিত্বের সংকট থেকে মুসলিম জাতিকে মুক্তি দিয়ে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয় ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ। মাত্র ৩১৩ জন সাহাবায়ে কেরাম এ অসম যুদ্ধে হাজারো কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়াই করে সেদিন বিজয় অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের সুসংবাদ ধ্বনিত হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। কোরআন মজিদের সূরা আনফালের ৪১নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, ‘ওয়ালাকাদ নাসারাকুমুল্লাহু বিবাদরিন ওয়াআনতুম আজিল্লাতুন ফাততাকুল্লাহা লায়াল্লকুম তাশকুরুন।’ অর্থাৎ ‘আর আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছিলেন, অথচ (সে সময়) তোমরা ছিলে প্রায় সরঞ্জামহীন। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।’
প্রিয় নবী (সা.) মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে পবিত্র মদিনায় হিজরত করেন। কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কেনা হয়। বিষয়টি আঁচ করে মুসলমানরাও পাল্টা প্রস্তুতি নেয়। মুসলমানদের আত্মরক্ষার্থে হামলা করা ছাড়া বিকল্প পথ খোলা ছিল না। নবীজি বদর যুদ্ধে বিজয়ের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। আল্লাহপাক পাঁচ হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলমানদের বিজয়ী করেন। সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়সূচক এ বদরের যুদ্ধের লড়াইয়ে মুসলমানরা রণাঙ্গনে বীরত্ব প্রদর্শন করে।
ছবি: সংগৃহীত
এই যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন প্রাণ হারান এবং ৭০ জন বন্দি হন। মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ১৪ জন শাহাদাত বরণ করেন। যুদ্ধে বন্দিদের ওপর মহানবী (সা.) নিষ্ঠুরতা দেখাননি। বরং সামান্য মুক্তিপণ দিয়ে অনেকে মুক্ত হন। আবার যারা শিক্ষিত যুদ্ধ বন্দি ছিল তারা মদিনার মুসলিম বালকদের পড়াশোনা করানোর শর্তে পরবর্তীতে ছাড়া পান। নবীজি পড়াশোনার ওপর কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এতে তা বোঝা যায়। বদরের যুদ্ধের পর ইসলাম ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়। পরবর্তীতে মুসলমানদের প্রেরণা ও আত্মশক্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ হয়ে ওঠে এ ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ।